ভর্তি পরীক্ষার ফি জমাদানের সময়সীমা বর্কধিতরণ <img class="alignnone size-medium wp-image-3329" src="http://shu.edu.bd/wp-con
ফোন
+880 55000073
ই-মেইল
info@shu.edu.bd

ভাইস-চ্যান্সেলর

img

অধ্যাপক ড. রফিকউল্লাহ খান (জন্ম: ২১ জানুয়ারি, ১৯৫৭) একজন বাংলাদেশি প্রাবন্ধিক, গবেষক ও সাহিত্য সমালোচক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক। বাংলা উপন্যাস ও আধুনিক কবিতা নিয়ে তাঁর গবেষণা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও হাসান হাফিজুর রহমান বিষয়ে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় সামগ্রিক অবদানের জন্য ২০১৭ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৯ সালে নেত্রকোণায় অনুষ্ঠিত ২৩তম বসন্তকালীন উৎসবে তিনি খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার পান। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। বর্তমানে নেত্রকোণা জেলায় অবস্থিত শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ড. রফিকউল্লাহ খান ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২১ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলার চর গোবিন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম এ. কে. এম. সাইফুল ইসলাম খান। তিনি ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও হোমিও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ও চিকিৎসক। মা নূরুন্নাহার ফিরোজা খানম ছিলেন বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও লেখক। তাঁরা দুজনেই সাহিত্যচর্চা করতেন। নূরুন্নাহার ফিরোজা খানমের আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম (২০১৫) এক শিক্ষানুরাগী গ্রামীণ সংগ্রামী নারীর অনবদ্য জীবনকথা। পশ্চিম মানিকগঞ্জের অজপাড়াগাঁয় নারীশিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ১৯৪৬ সালে দুজনে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন ‘গোলে-মনির জুনিয়র বালিকা বিদ্যালয়’। নয় ভাই-বোনের মধ্যে রফিকউল্লাহ খান তৃতীয়।

অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খানের শিক্ষাজীবনের শুরু গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি মাধ্যমিক পাস করেন নাগরপুরের দপ্তিয়র উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে। বগুড়ার শেরপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে ১৯৭৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৮০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ হতে ¯œাতক (সম্মান) শ্রেণির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৮১ সালে এম.এ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান লাভ করেন। ১৯৮৩-১৯৮৫ সালে বাংলা একাডেমির বৃত্তিপ্রাপ্ত গবেষক হিসেবে রচনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান : জীবন ও সাহিত্য শীর্ষক গবেষণা-গ্রন্থ। ১৯৮৫ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে স্থায়ী পদে যোগদান করেন।

বাংলা একাডেমির বৃত্তিপ্রাপ্ত গবেষক হিসেবেই ১৯৮৩ সালে কর্মজীবন শুরু করেন ড. রফিকউল্লাহ খান। সে বছরের শেষ দিকে নিযুক্ত হন বাংলা একাডেমির গবেষণার কাজে। রচনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান : জীবন ও সাহিত্য। ১৯৮৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদানের আগেই তিনি মাইকেল রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য (১৯৮৫) ও কবিতা ও সমাজ (১৯৮৫) শীর্ষক দুটি গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। বইগুলো বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়। ছাত্রজীবন থেকে সাহিত্যচর্চা ও প্রবন্ধ রচনায় খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পূর্বেই গবেষণাধর্মী ও সৃজনশীল মিলিয়ে শতাধিক প্রবন্ধ রচনা করেন। পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৯৫ সালে। গবেষণার বিষয় ‘বাংলাদেশের উপন্যাস : বিষয় ও শিল্পরূপ’ (১৯৪৭-১৯৮৭)। তিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক বঙ্গবিদ্যা পরিষৎ কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম-স¤পাদক এবং আন্তর্জাতিক বঙ্গবিদ্যা পরিষৎ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ স¤পাদক। পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশের সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের ১০১২ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত।